সম্রাট সিকদার:
যুক্তরাজ্যের লেস্টার সিটিতে প্রথমবারের মতো অত্যন্ত আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে চাঁদপুর জেলাবাসীর ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান। প্রবাসের কর্মব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি ভুলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা চাঁদপুর জেলার প্রবাসী বাংলাদেশিরা পরিবার-পরিজন নিয়ে মিলিত হন এক প্রাণবন্ত উৎসবে।
প্রবাসে বসবাসরত চাঁদপুরবাসীর মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে লেস্টারের Asli Zaiqa Restaurant-এ এ পুনর্মিলনীর আয়োজন করা হয়। ‘আপন আলোয় চাঁদপুর’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যেন বসেছিল চাঁদপুরবাসীর মিলনমেলা।
বিশিষ্ট প্রবাসী ব্যক্তিত্ব মহসিন হোসেনের আহ্বানে এবং কাউসার গণি কাজলের সার্বিক তত্ত্বাবধানে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী এ আয়োজন বাস্তবায়িত হয়। লেস্টার ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুল সংখ্যক চাঁদপুরের প্রবাসী সপরিবারে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে মহসিন হোসেন বলেন, “আমরা প্রবাসে যে যেখানেই থাকি না কেন, নাড়ির টান কখনো ভোলা যায় না। লেস্টার সিটিতে চাঁদপুরবাসীকে এক ছাদের নিচে আনতে পেরে সত্যিই খুব আনন্দ লাগছে। আশা করি এই ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ব ভবিষ্যতেও অটুট থাকবে।”
কাউসার গণি কাজল বলেন, “এটি ছিল আমাদের প্রথম উদ্যোগ। সবার কাছ থেকে এত স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া পাবো, তা ভাবিনি। আমাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলাদেশের সংস্কৃতি এবং চাঁদপুরের ঐতিহ্যকে তুলে ধরা।”
অনুষ্ঠানে প্রবাসীরা শৈশব-কৈশোরের নানা স্মৃতিচারণ করেন। দীর্ঘদিন পর পরিচিত মুখগুলোর সঙ্গে মিলিত হয়ে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন সবাই। দেশীয় ঐতিহ্যবাহী খাবার, প্রাণবন্ত আড্ডা ও স্মৃতিচারণে মুখর হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ।
চাঁদপুর জেলার অতীত ঐতিহ্য ও স্মৃতিচারণ করেন প্রবীণ ব্যক্তিত্ব জনাব মুনসুর মজুমদার, জনাব নুরুন্নবী তালুকদার, জনাব ফখরুল আলম, জনাব মো. ফারুক এবং জনাব শফিকুল ইসলাম পলাশ। এছাড়া শৈশবের নানা স্মৃতি তুলে ধরেন মুক্তার হোসেন, ফজলুল হক নয়ন, মেজবাহউদ্দিন পাটোয়ারী, মোখলেছ আহমেদ, মিজানসহ আরও অনেকে। এ সময় উপস্থিত প্রবাসী নারীরাও গল্প-আড্ডায় অংশ নিয়ে অনুষ্ঠানে ভিন্নমাত্রা যোগ করেন।
প্রথমবারের মতো আয়োজিত এ ঈদ পুনর্মিলনী সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় আয়োজক ও অতিথিরা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন নিয়মিত অনুষ্ঠিত হবে এবং প্রবাসে বসবাসরত চাঁদপুরবাসীর মধ্যে ঐক্য, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।
