চাঁদপুরের মতলব উত্তর ও মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ার মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনে প্রস্তাবিত প্রায় ১ দশমিক ৮৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ক্যাবল-স্টেইড সেতু নির্মাণ প্রকল্পে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। প্রকল্পের জন্য নির্ধারিত ভূমি অধিগ্রহণের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এখন ক্ষতিগ্রস্ত ভূমিমালিকদের ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং অধিগৃহীত জমি বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভূমি অধিগ্রহণের আওতায় থাকা ১১৫ জন ভূমিমালিককে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। এরই মধ্যে ক্ষতিপূরণ প্রদান শুরু হয়েছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে অধিগৃহীত জমি বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। জমি হস্তান্তরের পর প্রকল্পের পরবর্তী বাস্তবায়ন কার্যক্রম আরও গতি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রস্তাবিত সেতুটি হবে চার লেনের আধুনিক ক্যাবল-স্টেইড সেতু। মেঘনা ও ধনাগোদা নদীর ওপর নির্মিতব্য এই সেতুর প্রাথমিক নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ৪ হাজার ১৭৪ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। পরবর্তীতে সংশোধিত প্রস্তাবে প্রকল্প ব্যয় বেড়ে প্রায় ৪ হাজার ৭৮৩ কোটি টাকা হতে পারে বলে জানা গেছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ।
ভূমি অধিগ্রহণের জন্য মোট ১৭ দশমিক ৪৫৭৫ একর জমি নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে মতলব উত্তর উপজেলার ১৫ নম্বর জামালপুর আরাজী মৌজায় ১৪ দশমিক ৮৩২৫ একর, ১৭ নম্বর বোরচর মৌজায় ২ দশমিক ২১০০ একর,২০ নম্বর বদরপুর মৌজায় শূন্য দশমিক ৪২৫০ একর এবং ৩৪ নম্বর মুক্তারকান্দি মৌজায় শূন্য দশমিক ৪৭২৫ একর জমি রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভূমি অধিগ্রহণ শেষ হওয়া প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে একটি বড় প্রস্তুতিমূলক ধাপ। বর্তমানে ক্ষতিপূরণ পরিশোধের পাশাপাশি জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়াকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমি বাস্তবায়নকারী সংস্থার কাছে বুঝিয়ে দেওয়া সম্ভব হলে সেতু নির্মাণের পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার পথ আরও সুগম হবে।
প্রস্তাবিত সেতুটি নির্মিত হলে চাঁদপুরের মতলব উত্তর ও মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ার মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হবে। এর মাধ্যমে চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী ও ভোলাসহ দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি জেলার সঙ্গে ঢাকার যোগাযোগ আরও সহজ ও দ্রুত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সেতুটি চালু হলে একদিকে এসব অঞ্চলের মানুষের ঢাকামুখী যাতায়াতে সময় ও পরিবহন ব্যয় কমতে পারে, অন্যদিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ওপর যানবাহনের চাপও কিছুটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহন, শিল্পায়ন ও আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এই সেতু প্রকল্পে ভূমি অধিগ্রহণ শেষ এবং ক্ষতিপূরণ প্রদান শুরু হওয়াকে তাই গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। এখন অধিগৃহীত জমি হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে মূল নির্মাণকাজের দিকে এগিয়ে যাওয়ার অপেক্ষা।
মতলব-গজারিয়া সেতু নির্মাণে অগ্রগতি, ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন

প্রকাশিত :
সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬; ৬:২৫ অপরাহ্ণ
Total Visit:270
মতলব বার্তা’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
0 Comments