সম্রাট সিকদার :
দেশব্যাপী প্রাথমিক শিক্ষকদের লাগাতার পূর্ণদিবস কর্মবিরতির মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) বার্ষিক পরীক্ষা স্থগিত থাকলেও চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ১৮০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৩০টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক, অভিভাবক ও দফতরিদের সমন্বয়ে দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত বাংলা পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, ক্লাস্টার অফিসারদের কঠোর তত্ত্বাবধানে ১ম ও ২য় শিফটের ৩য় প্রান্তিক মূল্যায়ন শুধুমাত্র ৩০টি বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাকি ১৫০টি বিদ্যালয়ে কোনোভাবেই মূল্যায়ন গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। সকল সহকারী শিক্ষক কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজকের পরীক্ষাও বর্জন করেছেন।
মঙ্গলবার সরেজমিনে কয়েকটি বিদ্যালয়ে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে, তবে কক্ষে দায়িত্ব পালন করছেন প্রধান শিক্ষক, অভিভাবক ও দপ্তরিরা।
পরীক্ষাকেন্দ্রে উপস্থিত অভিভাবক মোছা. সুলতানা বেগম বলেন, শিশুরা পড়ালেখা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। কর্মবিরতি দীর্ঘ হলে তাদের বড় ক্ষতি হবে। আমরা চাই সরকার দ্রুত সমাধান করুক।
আরেক অভিভাবক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, আজ আমরা নিজেরাই কক্ষে গার্ড দিয়ে পরীক্ষা নিতে সহায়তা করেছি। কিন্তু প্রতিদিন তো সম্ভব নয়। যত দ্রুত সম্ভব সমস্যার সমাধান প্রয়োজন।
পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী নুসরাত জান্নাত বলে, টিচাররা আসছেন, গতকাল পরীক্ষা নেয়নি। পরীক্ষা হবে কি না এ নিয়েই দুশ্চিন্তা। আজ পরীক্ষা দিতে পেরে ভালো লাগছে।
চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাফি মিজান জানায়, অনেকে বলছিল আজ পরীক্ষা হবে না। পরে স্যাররা (প্রধান শিক্ষক) ডেকে নিয়ে পরীক্ষা নিলেন। আমরা চাই নিয়মিত ক্লাস হোক।
৯নং দক্ষিণ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল খায়ের ও ওঠারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশিকুজ্জামান জানান, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার নির্দেশে ও অভিভাবকদের সার্বিক সহযোগিতায় আজকের পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। সহকারী শিক্ষকরা স্কুলে উপস্থিত থাকলেও কর্মবিরতিতে রয়েছেন।
অন্যদিকে গজরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শাহ আলম বলেন, আমাদের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আমরা সারাদেশে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মবিরতি পালন করছি। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে।
উপজেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি আব্দুল বাতেন বলেন, সহকারী শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি বহুদিনের। সরকার এখনো দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। জটিলতা দূর করে দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জামাল উদ্দিন বলেন, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। যেসব বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ও অভিভাবকরা উদ্যোগ নিয়েছেন, সেখানে পরীক্ষা নিয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষার সূচি ঘোষণা করা হবে।
উল্লেখ্য, প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ তিন দফা দাবিতে গত কয়েকদিন ধরে লাগাতার পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করছে। দাবিগুলো হলো, সহকারী শিক্ষকদের বেতনস্কেল ১০ম গ্রেডে নির্ধারণ, ১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড প্রদানে জটিলতার অবসান সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি নিশ্চিতকরণ। দাবির বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় কর্মবিরতি আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা করছেন শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা।
