স্টাফ রিপোর্টারঃ
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার বাগানবাড়ী আইডিয়েল একাডেমীর এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলছু মনির কাছে লিখিত আবেদন করেছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে দেওয়া লিখিত আবেদনে বিদ্যালয়ের গণিত শিক্ষক মো. সাখাওয়াত হোসেন তুহিন বিভিন্ন অনিয়ম করছে বলে অভিযোগ করা হয়।

লিখিত আবেদনে অভিযোগ করা হয়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নাম ব্যবহার করে বিদ্যালয়ে কোচিং ও প্রাইভেট বাণিজ্য পরিচালনা করা হচ্ছে। শুধু তাই নয় শ্রেণিকক্ষে যথাযথভাবে পাঠদান না করিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়ান এবং সেখান থেকে মাসে প্রায় ৭৬ হাজার টাকা আয় করেন মো. সাখাওয়াত হোসেন তুহিন। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়তে চাপ প্রয়োগ করা হয় এবং প্রাইভেট না পড়লে পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়  মো. সাখাওয়াত হোসেন তুহিন এর বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যাওয়ার অভিযোগও করেন প্রাক্তন শিক্ষার্থী মো. নূরে আলম নিলয়। 

বিদ্যালয়ের অর্ধবার্ষিক পরীক্ষায় ব্যবহারিক পরীক্ষার নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে বিদ্যালয়ের শিক্ষকের বিরুদ্ধে। আবেদনে আরও বলা হয়, দুপুরের খাবারের সময় শিক্ষার্থীদের বাড়িতে যেতে না দিয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন ধরনের খাবার এনে শিক্ষার্থীদের কাছে বিক্রি করে। এতে ব্যবসায়িকভাবে লাভ করা হচ্ছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেন।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, সকাল ৬টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিদ্যালয়ে প্রাইভেট, কোচিং ও শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ফলে শিক্ষার্থীরা খাবার খাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না। শিক্ষার নামে চলছে সারাদিনই ব্যবসা। অভিযোগকারীদের দাবি, শিক্ষার পরিবেশের পাশাপাশি বিদ্যালয়ে দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন ধরনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

এসব অভিযোগ তদন্ত করে সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আবেদনকারীরা অনুরোধ জানিয়েছেন। 

আবেদনকারীরা হলেন, অভিভাবক ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী মো. নূরে আলম নিলয়, মো. জাকির হোসেন, ইকরামুজ্জামান ও রোকনুজ্জামান ।

উল্লেখ্য, ১১ আগস্ট দুপুর ১২ টায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায়ও বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান ও শিক্ষকদের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ প্রাইভেট পড়া সত্বেও এবারের এসএসসি পরীক্ষায় বাগানবাড়ি আইডিএল একাডেমির ১১৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪১ জন পাস এবং ৭৩ জন কেন অকৃতকার্য হয়েছ।  এ বিষয়ে তারা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে বিভিন্ন প্রশ্ন তুলে ধরেন।

সভায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল আজিজ শিক্ষার্থীদের আশানুরূপ ফলাফল না হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, অনেক শিক্ষার্থী বাড়িতে নিয়মিত পড়াশোনা করে না। লেখাপড়ায় না করার কারণে টেস্ট পরীক্ষায়ও অনেক শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। এরপরও তাদের মধ্যে অনেক শিক্ষার্থীর ফরম পূরণ করা হয়েছে। কিন্তু ফরম পূরণের সুযোগ পাওয়া এসব শিক্ষার্থীর অধিকাংশই এবারের এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেনি।

তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান উন্নয়নে শিক্ষক ও অভিভাবকদের আরও সচেতন হতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা বাড়িতে নিয়মিত পড়াশোনা করছে কি না, সে বিষয়ে অভিভাবকদের আরও বেশি নজরদারি করার আহ্বান জানান।

অভিভাবক ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান শিক্ষক বলেন, ভবিষ্যতে বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষক প্রাইভেট পড়াতে পারবেন না। মেধাবী ও অপেক্ষাকৃত দুর্বল শিক্ষার্থীদের আলাদাভাবে পড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এ সময় গণিত শিক্ষক মো. সাখাওয়াত হোসেন তুহিনের বিরুদ্ধে কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান প্রধান শিক্ষক। একই সঙ্গে তিনি এ বিষয়ে সবার কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

সভায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

তবে লিখিত আবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে গণিত শিক্ষক মো. সাখাওয়াত হোসেন তুহিনের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।