স্টাফ রিপোর্টারঃ
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার সুলতানাবাদ ইউনিয়নের আম্মা কান্দা গ্রামে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ১২টি হিন্দু পরিবারের পানি নিষ্কাশন বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রায় দুই বছর ধরে ওই পরিবারগুলো চরম দুর্ভোগে রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সুলতানাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ সড়কের বেড়িবাঁধ থেকে ঢালু পথে প্রয়াত গণেশ চন্দ্র সরকারের বাড়ি। বাড়িটির পশ্চিম পাশে পাকা সড়ক এবং সড়কের পশ্চিম পাশে মুসলমান জালাল জামাদারের জমি রয়েছে। জালাল জামাদার ও তার ছেলে শাকিলের নামে ওই জমি ক্রয় করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারীরা জানান, সালামত প্রধান যখন জমির মালিক ছিলেন, তখন হিন্দু সম্প্রদায়ের পরিবারগুলোর পানি নিষ্কাশনে কোনো সমস্যা ছিল না। কিন্তু বর্তমানে জালাল জামাদার জমিটির মালিক হওয়ার পর থেকে তিনটি হিন্দু পরিবারের পানি নিষ্কাশনে বাধা সৃষ্টি করেছে । প্রায় দুই বছর ধরে এ সমস্যার কারণে সামান্য বৃষ্টি হলেই বাড়ির উঠানে পানি জমে যায়। তাদের দাবি, বর্তমানে জমির মালিক জালাল জামাদার। রাস্তার ওপর তার জমি এবং রাস্তার পূর্ব দিকে সামান্য জমি রয়েছে। ওই জমির পরিমাণ নিয়েও বিরোধ রয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, সেখানে প্রায় এক শতক জমি থাকার কথা থাকলেও অপর পক্ষ প্রায় তিন শতক জমি রয়েছে বলে দাবি করছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে আদিত্য সরকারসহ হিন্দু পরিবারগুলোর কাছ থেকে প্রায় সাড়ে ছয় লাখ টাকা দাবি করা হচ্ছে। টাকা না দেওয়ায় ১২টি হিন্দু পরিবারের বাড়ির পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ তাদের।
ভুক্তভোগীরা বলেন, সামান্য বৃষ্টিতেই বাড়ির উঠানে পানি জমে যায়। দীর্ঘদিন ধরে এ অবস্থায় বসবাস করায় নারী, শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে তারা চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। তবে মোসলমান জালাল জমাদার ও হিন্দু পরিবার আদিত্য সরকারের বক্তব্যে রয়েছে। জালাল জমাদার বলছেন তার তিন শতক জমি আদিত্য সরকার দখল করে রেখেছে, গ্রামে শালিশের মাধ্যমে সাড়ে ছয় লক্ষ টাকা দিবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে এমনটাই বললেন জালাল জমাদার। হিন্দু পরিবারের পক্ষে আদিত্য সরকার বলেন, পূর্বের মালিক সালামত তিনি মালিক থাকতে পরিমাপ করে এক শতক জমি দাবি করেছিলেন, এখন জালাল জমাদার জমির মালিক হয়ে তিন শতক জমি দাবি করে সাড়ে ছয় লক্ষ টাকা জমির মূল্য বলে আদিত্য সরকারের কাছে চাপ প্রয়োগ করেন বলে জানান আদিত্য সরকার। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে তাদের দুর্ভোগ থেকে রক্ষা করতে স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
