মতলব উত্তর প্রতিনিধি :

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের মিয়াজী বাড়ির আমির মিয়াজীর ছেলে সিয়াম হোসেন একই গ্রামের ফাতেমা নামে এক তরুণীকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ঈদুল ফিতরের পরের দিন বাড়ি থেকে নিয়ে গিয়ে দুইদিন একসাথে থাকেন এবং শারীরিক সম্পর্ক করেন। এই ঘটনা ঘিরে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী ফাতেমার অভিযোগ, গত ৪ বছর ধরে তাদের প্রেমের সম্পর্ক। কয়েক দিন আগে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সিয়াম তাকে বাড়ি থেকে নিয়ে যায়। এর পর সিয়াম তাকে বিয়ে না করে মতলব উত্তরের নরসিংহপুরে তারই বন্ধু শাহেদের বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে তারা ২দিন একসাথে থাকেন এবং শারীরিক সম্পর্কে ঘনিষ্ঠ হন। পরবর্তীতে ফাতেমাকে বিয়ে না করেই পাঠিয়ে দেয় তার নিজ বাড়িতে। বাড়িতে গেলে সামাজিক লাঞ্ছনার ভয়ে ফাতেমাকে তার মা ঘরে প্রবেশ করতে বাধা দেন।

এই পরিস্থিতিতে সিয়াম ফাতেমাকে দাউদকান্দিতে তাদের বান্ধবী নুসরাতে বাসায় নিয়ে যান, এভাবেই সেখানে ১৪ দিন ছিল ফাতেমা। কিছুদিন ধরে সিয়াম ফাতেমার সাথে সকল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিলে নিরুপায় হয়ে (৫ এপ্রিল) রবিবার দুপুরে সিয়ামের বাড়িতে এসে অবস্থান নেন ফাতেমা। এই ঘটনার প্রতিবাদে ও বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে এসে অনশন শুরু করেছেন ভুক্তভোগী তরুণী ফাতেমা। এদিকে অনশনের কারণে বাড়িতে তালা দিয়ে আত্মগোপন করেছেন সিয়ামের মা খালেদা বেগমসহ পরিবারের সদস্যরা।

প্রেমিকা ফাতেমার দাবি “সিয়াম আমাকে বিয়ের কথা বলে বাড়ি থেকে বের করেছে। এখন সে আমাকে গ্রহণ না করলে আমার আর যাওয়ার কোনো জায়গা নেই। যদি এখানে আমার সুষ্ঠু বিচার না হয়, তবে আমি এই বাড়িতেই আত্মহত্যা করবো।

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। তবে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও ৮ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মানিক মিয়াজী বিষয়টি জেনে ছেলের পরিবারের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করে বাড়িতে আনতে ব্যর্থ হয়ে মেয়ের পরিবারকে আইনের আশ্রয় নিতে পরামর্শ দেন।

জানা যায় ফাতেমা বড় দুর্গাপুর ফরাজী বাড়িতে তার নানা বাড়ি থাকেন, বর্তমানে তিনি মতলব সরকারি কলেজে লেখাপড়া করেন। ফাতেমার বাবার নাম আলমগীর হোসেন ও মায়ের নাম জোসনা বেগম। ফাতেমার মা জোসনা বেগম জানান, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তার মেয়ের সর্বনাশ করা হয়েছে। তারা এখন সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এবং এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার হিসেবে সিয়ামের সাথেই মেয়ের বিয়ে চান।

এদিকে ঘটনার বিষয়ে জানতে সিয়ামের পরিবারের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করার পর ফোন রিসিভ করে সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর তারা কোনো কথা না বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। ফলে সিয়াম বা তার পরিবারের কারো সাথেই যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

এলাকাবাসীর মধ্যে এই ঘটনা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই ফাতেমার নিরাপত্তা ও সামাজিক মর্যাদার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বর্তমানে ফাতেমাকে ইউপি সদস্য মানিক মিয়াজী’র হেফাজতে রেখে আসেন এলাকাবাসী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ।