নিজস্ব প্রতিবেদক:

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ১১নং পশ্চিম ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে আগাম নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা ও ভোটের হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লা সর্বত্র সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে চলছে নানা আলোচনা ও বিশ্লেষণ।

স্থানীয়দের একাংশের ভাষ্য, সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে তরুণ নেতৃত্বের প্রতিনিধি হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন রাঢ়ীকান্দি গ্রামের মরহুম ফখরুল ইসলাম সরকারের জ্যেষ্ঠ সন্তান ও মতলব উত্তর উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জনাব ফয়সাল আহমেদ সোহেল।

জানা যায়, ছাত্রজীবন থেকেই তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। কলেজ ছাত্রদল থেকে রাজনৈতিক পথচলা শুরু করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলে সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে মতলব উত্তর উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি মতলব উত্তর উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

দলীয় নেতাকর্মীদের দাবি, বিগত সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে গিয়ে তিনি হামলা-মামলা ও নির্যাতনের শিকার হন। এছাড়া একতরফা নির্বাচনের বিরুদ্ধে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সময় প্রায় চার মাস কারাভোগও করেন বলে তারা জানান।

রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে নিজ এলাকার বিভিন্ন সামাজিক, মানবিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও অংশগ্রহণ করে আসছেন বলে স্থানীয়রা জানান। তাদের মতে, তরুণদের পাশাপাশি বয়োজ্যেষ্ঠদের মধ্যেও তিনি গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফয়সাল আহমেদ সোহেল বলেন, “দল-মত নির্বিশেষে সাধারণ জনগণ, দলীয় নেতৃত্ব এবং চাঁদপুর-২ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য ড. আলহাজ জালাল উদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সমর্থন পেলে আমি নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী। নির্বাচিত হলে ১১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করব, ইনশাআল্লাহ।”

তিনি আরও বলেন, “আমার অগ্রাধিকার থাকবে মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূলে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, রাজনৈতিক ও পারিবারিক বিরোধ নিরসনে গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করা এবং কৃষকসহ সুবিধাবঞ্চিত মানুষের ন্যায্য সরকারি সেবা ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা।”

এদিকে স্থানীয় রাজনীতি-সচেতন মানুষের একাংশের মতে, পারিবারিক ঐতিহ্য, শিক্ষা, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন। তবে শেষ পর্যন্ত তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচনী প্রচারণা এবং ভোটের দিন জনগণের রায়েই নির্ধারিত হবে কে হবেন পশ্চিম ফতেপুর ইউনিয়নের পরবর্তী জনপ্রতিনিধি।