আলআমীন পারভেজ :
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিশ্চিন্তপুর ডিগ্রি কলেজে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায়, মিলাদ, দোয়া মাহফিল ও অভিভাবক সমাবেশ উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৭ জুন) কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের সফলতা কামনার পাশাপাশি কলেজটির সার্বিক উন্নয়ন এবং জাতীয়করণের জোরালো দাবি উত্থাপন করেন শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সুধীজন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. মোহাম্মদ জালাল উদ্দিনের সহধর্মিণী ইঞ্জিনিয়ার শাহনাজ শারমিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদের ডীন অধ্যাপক ডা. শামীম আহমেদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি কর্নেল (অব.) মতিউর রহমান ঝন্টু।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ব্যারিস্টার ওবায়দুর রহমান টিপু, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলমগীর সরকার, কলেজের অধ্যক্ষ কামাল হোসেন, দাতা সদস্য শাহাদাত করিম চৌধুরী (সংগ্রাম মিয়া), উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মিয়া মনজুর আমিন স্বপন, জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি খায়রুল হাসান বেনুসহ রাজনৈতিক, সামাজিক, শিক্ষাঙ্গন ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানে কোরআন তিলাওয়াত, মিলাদ ও বিশেষ দোয়া মাহফিলের মাধ্যমে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের সুস্বাস্থ্য, মঙ্গল, উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল কামনা করা হয়। পরে অতিথিরা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য প্রদান করেন। তারা বলেন, জীবনের প্রতিটি সফলতার মূল চাবিকাঠি হলো সততা, অধ্যবসায়, শৃঙ্খলা ও আত্মবিশ্বাস। পরীক্ষাকে ভয় না পেয়ে পরিকল্পিত প্রস্তুতির মাধ্যমে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা।
অনুষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল নিশ্চিন্তপুর ডিগ্রি কলেজের উন্নয়ন-সংক্রান্ত বিভিন্ন দাবি। কলেজের অধ্যক্ষ, শিক্ষক, দাতা সদস্য, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ছাত্র নিবাস ও ছাত্রী নিবাস নির্মাণ, আধুনিক আইসিটি ল্যাব স্থাপন, শিক্ষা অবকাঠামোর সম্প্রসারণ এবং কলেজটিকে দ্রুত জাতীয়করণের জোরালো দাবি জানানো হয়।
বক্তারা বলেন, মরহুম আলহাজ মনির হোসেন খান প্রতিষ্ঠিত নিশ্চিন্তপুর ডিগ্রি কলেজ দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের উচ্চশিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। কিন্তু জাতীয়করণের বাইরে থাকায় অবকাঠামোগত উন্নয়ন, আবাসন সুবিধা ও আধুনিক শিক্ষা-উপকরণের ক্ষেত্রে নানা সীমাবদ্ধতা রয়ে গেছে। কলেজটি জাতীয়করণ করা হলে অর্থনৈতিকভাবে অসচ্ছল অথচ মেধাবী শিক্ষার্থীরা স্বল্প ব্যয়ে মানসম্মত উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার কমবে, নারী শিক্ষার প্রসার ঘটবে এবং মতলব উত্তরসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের শিক্ষাব্যবস্থায় নতুন গতি সঞ্চার হবে।
অনুষ্ঠান শেষে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের আবেগঘন উপস্থিতিতে কলেজ প্রাঙ্গণ এক আন্তরিক ও স্মরণীয় পরিবেশের সৃষ্টি করে।

https://shorturl.fm/YtzdB