নিজস্ব প্রতিবেদক:
সিঙ্গাপুরে চাকরি দেওয়ার কথা বলে চার ব্যক্তির কাছ থেকে প্রায় ৯৫ লাখ টাকা নেওয়ার পর প্রতারণা করে আত্মগোপনে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার কাকুয়া গ্রামের জুবায়ের আহাম্মদের বিরুদ্ধে। তার অবস্থান সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য দিয়ে শনাক্ত বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে ধরিয়ে দিতে সহায়তা করতে পারলে ৫ লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।
জুবায়ের আহাম্মদের পিতার নাম আলী আহাম্মদ। তার বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলার মিঠামইন উপজেলার কাকুয়া কাটাখা বাজারসংলগ্ন মধ্যপাড়া এলাকায়। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জুবায়ের আহাম্মদ দীর্ঘদিন সিঙ্গাপুরে ছিলেন। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সিঙ্গাপুরে নিয়ে গিয়ে চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলে তিনি চার বাংলাদেশির কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে প্রায় ৯৫ লাখ টাকা নেন। এ সময় পাসপোর্ট নম্বর, ওয়ার্ক পারমিট নম্বরসহ বিভিন্ন তথ্য দেখিয়ে তিনি ভুক্তভোগীদের বিশ্বাস অর্জন করেন বলে অভিযোগ তাদের।
এ ঘটনায় কিশোরগঞ্জের মিঠামইন থানায় জাভেদ হোসেন বাদী হয়ে জুবায়ের আহম্মদের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছেন। মামলার অভিযোগে জাভেদ হোসেনের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে মোট ২৭ লাখ ২ হাজার ২৫০ টাকা নেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সিঙ্গাপুরে চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে এসব টাকা নেওয়া হয়। জাভেদের বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলার চন্দ্রগঞ্জ উপজেলায়।
ভুক্তভোগীদের দাবি, টাকা নেওয়ার পর প্রতিশ্রুত চাকরির ব্যবস্থা না করে জুবায়ের আহাম্মদ বাংলাদেশে চলে আসেন। এরপর তার সঙ্গে যোগাযোগ করে টাকা ফেরত চাওয়া হলে তিনি বিভিন্নভাবে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। একপর্যায়ে তার সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন তারা।
ভুক্তভোগীরা জানান, জুবায়ের আহম্মদের গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার কাকুয়া এলাকায়। তার সন্ধানে সেখানে গিয়ে তারা বাড়িটি তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পান। স্থানীয়দের দাবি দীর্ঘদিন ধরে সেখানে কেউ বসবাস করছেন না ।
গ্রামের বাড়িতে জুবায়েরকে খুঁজে না পেয়ে একপর্যায়ে ভুক্তভোগীরা তার শ্বশুরবাড়িতে যান। তার শ্বশুরবাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার ফান্দাউক ইউনিয়নের ফান্দাউক পীর সাহেব বাড়ি এলাকায়। সেখানে গিয়ে জুবায়েরের শ্বশুর রফিকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জুবায়ের আহাম্মদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই বলে জানান—এমন দাবি ভুক্তভোগীদের।
পরে খোঁজ নিয়ে ভুক্তভোগীরা জানতে পারেন, জুবায়ের আহাম্মদ বর্তমানে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। তবে তার বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য জানতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা চেয়েছেন তারা। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জুবায়ের আহাম্মদ তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা নিয়ে আত্মগোপনে রয়েছেন। তার অবস্থান শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পাওনা টাকা উদ্ধারে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন তারা।
এদিকে, জুবায়ের আহাম্মদের অবস্থান সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য দিয়ে তাকে শনাক্ত বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে ধরিয়ে দিতে সহায়তা করতে পারলে ৫ লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।
অভিযুক্ত জুবায়ের আহাম্মদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

This post really resonated with me today.